You are currently viewing ওয়েবসাইট কি? ওয়েবসাইট কেন দরকার?

ওয়েবসাইট কি? 

উকিপিডিয়ার মতে ওয়েবসাইট বলতে বোঝায়, কোন নির্দিষ্ট ওয়েব সার্ভারে রাখা- ওয়েব পেজ,ভিডিও,অডিও,ছবি বা যে কোন ধরণের তথ্য যা ইন্টারনেটের মাধ্যমে পৃথিবীর যে কোন প্রান্ত থেকে  অ্যাক্সেস করা যায়। আমরা যখন আমাদের ব্রাউজার থেকে কোন ওয়েবসাইট কে অ্যাক্সেস করার চেষ্টা করি, তখন সার্চকৃত ওয়েবসাইটটি কোন ওয়েবসার্ভার থেকে এইচটিটিপি প্রোটোকলের মাধ্যমে সমস্ত ফাইলকে একত্রে করে একটি এইচটিএমএল ডকুমেন্ট আকারে আমাদের সামনে প্রদর্শন করে।

যদি সহজ ভাবে বলতে যাই তাহলে- আমরা ব্রাউজারে ( facebook.com ) লিখে সার্চ করার পর কি পাই? ফেসবুক দেখতে পাই, এই ফেসবুক একটা ওয়েবসাইট আবার itnuthosting.com.bd লিখে সার্চ করলে আমরা আইটি নাটের ওয়েবসাইট দেখতে পাই, অর্থাৎ এক কথায় কোন ডোমেইন নাম লিখে সার্চ করার পর আমরা যা দেখতে পাই তাই হলো ওয়েবসাইট।

ওয়েবসাইট কেন দরকার?

বিশ্বায়নের এই যুগে ওয়েবসাইট কেন দরকার তা যদি বিস্তারিত আলোচনা করতে যাই, তাহলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পেজের পর পেজ শেষ হয়ে যাবে তবু আলোচনা শেষ হবে কিনা সন্দেহ আছে। তাই এত দীর্ঘ সময় আলোচনার করার বদলে আমরা চেষ্টা করবো শর্টকাটে- ওয়েবসাইট কেন দরকার তাঁর গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করতে, তো চলুন কথা না বাড়িয়ে শুরু করা যাক।

ফ্রিল্যান্সিং করতে ওয়েবসাইট

আপনি ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে চাচ্ছেন বা ফ্রিল্যান্সিং জগতে নতুন পদার্পণ করেছেন? যদি আপনে নতুন ফ্রিল্যান্সার হয়ে থাকেন, এই ক্ষেত্রে আপনার সর্ব প্রথম কাজ হবে কোন নির্দিষ্ট সেক্টরে নিজের স্কিল অর্জন করা। 

উদাহরণস্বরূপ: আনোয়ার একজন নতুন ফ্রিল্যান্সার, সে ফ্রিল্যান্সিং করার উদ্দেশ্য দীর্ঘদিন যাবত গ্রাফিক্স ডিজাইন সেক্টরে নিজেকে দক্ষ করে তুলছে। আনোয়ার দিনের পর দিন মাসের পর মাস চর্চা করে গ্রাফিক্স ডিজাইন আয়ত্ব করে ফেলেছে, এখন গ্রাফিক্স ডিজাইনে তাঁর দক্ষতা রয়েছে, সে ডিজাইন রিলৈটেড কাজ করার জন্য পুরোপুরিভাবে প্রস্তুত। তো আনোয়ার যেহেতু কাজ শিখে গেছে তাই সে বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে গিয়ে নিজের একাউন্ট তৈরি করেছে এবং কাজ পাবার জন্য লক্ষ লক্ষ ফ্রিল্যান্সারের সাথে প্রতিযোগিতায় নেমে গেছে। 

আজকে ফাইবারের নতুন গিগ বানাচ্ছে তো কালকে আপওয়ার্কে নতুন প্রোজেক্টে বিট করছে। কিন্তু গ্রাফিক্স ডিজাইনে দক্ষতা থাকার পরেও আনোয়ার কাজ পাচ্ছে না কোন ভাবেই।  মাঝে মাঝে ক্লায়েন্টের নক পেলেও ক্লায়েন্টকে কোন মতেই বোঝাতে পারছে না সে আসলেই গ্রাফিক্স ডিজাইন কাজ জানে এই বিষয়ে তাঁর দক্ষতা রয়েছে। কিছু কিছু বায়ার আনোয়ারের প্রোফাইল দেখেই ফিরে যাচ্ছে কারণ আনোয়ারের নতুন একাউন্ট তাই ক্লায়েন্ট ভরসা করতে পাচ্ছে না আসলেই আনোয়ারকে দিয়ে তাঁর কাজ হবে কিনা। 

এখানে আনোয়ারের ভুল কোথায়? কেন দক্ষতা থাকার পরও সে কাজ পাচ্ছে না? উত্তর একটাই, আনোয়ার ক্লায়েন্টের কাছে নিজেকে একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে  রি-প্রেজেন্ট করতে পারেনি। এই পরিস্থিতে আনোয়ারের যদি একটা পোর্টফলিও ওয়েবসাইট থাকতো আর সেখানে যদি আনোয়ার তাঁর পূর্বের করা কিছু প্রোজেক্ট পোর্টফলিও হিসেবে তুলে ধরতো ,তাহলে সে খুব সুন্দর মতো ক্লায়েন্টেকে বোঝাতে পারতো, সে আসলেই গ্রাফিক্স ডিজাইন জানে এর পূর্বেও সে অসংখ্য ডিজাইন রিলেটেড কাজ-কর্ম করেছে। 

শুধু গ্রাফিক্স ডিজাইন না ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে আপনে যে কোন কাজই করুন না কেন, আপনার একটি পোর্টফোলিও থাকা অত্যন্ত জরুরী। আপনে মুখে সারাদিন বললেন এই কাজ পারি,সেই কাজ পারি কিন্তু কিছু প্রজেক্ট দেখাতে বললে দেখাতে পারলেন না তাহলে আপনার প্রতি ক্লায়েন্ট বিশস্ত হবে কেন? কোন ভরসাতে আপনাকে কাজ দিবে? একটি পোর্টফলিও ওয়েবসাইট যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা বর্ণণা করার মতো নয়, কিন্তু আমাদের দেশের অধিকাংশ ফ্রিল্যান্সার এই বিষয়টিকে গুরুত্বসহকারে দেখে না, যার ফলে মার্কেটপ্লেসে একাউন্ট তো অনেক, কিন্তু সত্যিকার অর্থে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে এমন ফ্রিল্যান্সারের সংখ্যা খুবই কম।

ব্লগার / লেখকদের জন্য ওয়েবসাইট

আগের যুগের হিমু,মিসির আলি জন্ম নিতো লেখকের ডাইরির পাতায় আর বর্তমান যুগের হিমু,মিসির আলির জন্ম হচ্ছে ফেসবুকের পোস্টের পাতায়। অনেক ভালো ভালো রাইটার আছে যারা সারাদিন ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে,পেজে,পোস্টে অসংখ্য আর্টিকেল লিখে যাচ্ছে। শুধু ফেসবুকেই না কোরাতে গেলে দেখতে পাবেন রাইটারদের ছড়াছড়ি, হাজার হাজার ক্যাটাগরীতে হাজার হাজার রাইটার লিখে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। 

এখন প্রশ্ন হলো- আপনার মাঝে ভালো রাইটিং দক্ষতা থাকার পরেও কেন অন্যর প্ল্যাটফর্মে লিখে যাচ্ছেন? এর বিনিময়ে কি কোন টাকা পাচ্ছেন? নাকি অন্য কোন ভাবে উপকৃত হচ্ছেন? আপনার লেখার প্রতিভার বিনিময়ে ফেসবুকে পাচ্ছেন কিছু লাইক আর কোরাতে পাচ্ছেন কিছু আপভোট। লাইক আর আপভোট দিয়ে কি জীবন চলবে? অথচ আপনার লেখা আর্টিকেল দিয়ে কিন্তু ফেসবুক,কোরা বা অন্যকোন প্ল্যাটফর্ম ঠিকই টাকা আয় করে নিচ্ছে। 

দীর্ঘদিন লেখালেখি করে ফেসবুকে একটি পেজ বড় করলেন, কোরাতে আপনার প্রোফাইলের ফলোয়ার বৃদ্ধি করলেন কিন্তু হঠাৎ কোন কারণ বসত আপনার ফেসবুক পেজটি অথবা কোরা একাউন্টটি নষ্ট হয়ে গেল, তখন কি হবে? আপনার দীর্ঘ দিনের পরিশ্রম এক নিমিষেই মাটি হয়ে গেল। 

তাই এখনো সময় আছে কোরা,ফেসবুকের পাশাপাশি কোন বিকল্প চিন্তা করুন। অন্যর প্ল্যাটফর্মে না লিখে নিজের একটি ওয়েবসাইট করুন নিজের প্ল্যাটফর্ম তৈরি করুন, এতে করে একসময় যেমন আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারবেন অপরদিকে নিজের পোর্টফলিও হিসেবেও পরিচয় দিতে পারবেন।

আগের যুগের লেখকদের যে কত কষ্ট করে লেখা পাঠকদের মাঝে পৌছে দিতে হতো তা ইতিহাসের দুই,একটি পাতা উল্টোলেই জানতে পারবেন। বর্তমান সময়ে লেখা পাঠকদের মাঝে পৌছে দেয়া যে কত সহজ হয়ে গেছে তা বলার উপেক্ষা রাখে না। রবীন্দ্রনাথ বেঁচে থাকলে হয়তো আইটি নাটের পক্ষ থেকে একটা ফ্রি ওয়েবসাইট করে দেয়া হতো। আপনার লেখা যেমনি হোক না কেন, যাদেরকে নিয়েই লেখা হোক না কেন, গ্রামের প্রান্তিক পর্যায় থেকে শুরু করে শহরের আনাচে-কানাচে পর্যন্ত লেখা পাঠকদের মাঝে পৌছে দিতে ওয়েবসাইটের কোন বিকল্প নেই। 

চাকরীর জন্য ওয়েবসাইট

হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন চাকরীর জন্যও ওয়েবসাইট প্রয়োজন। চাকরীর জন্যও যে ওয়েবসাইটের প্রয়োজন তা এখন পর্যন্ত আমাদের দেশের অনেকেরি অজানা, কিন্তু আপনে যদি ইউরোপ-আমেরিকার দেশগুলোর দিকে লক্ষ্য করেন তাহলে দেখবেন ওয়েবসাইট থাকাটা এখন কমন হয়ে গেছে, চাকরী থেকে শুরু করে ব্যবসা বাণিজ্য সব জায়গাতেই ওয়েবসাইটের প্রচলন। 

একদম সহজ একটা বিষয় ভেবে দেখুন একটি চাকরীর জন্য হাজার হাজার সিভি জমা পড়ে, জব রিক্রুটাররা সাধারণত একটি সিভিতে সর্বনিম্ন ৩ সেকেন্ড এবং সবোর্চ্চ ২৬ সেকেন্ড সময় দিয়ে থাকে। এখন এই কয়েক সেকেন্ডের ভেতরেই আপনাকে সিভিতে এমন কিছু তথ্য তুলে ধরে ইমপ্রেস করতে হবে যাতে আপনি পরবর্তী স্টেপের জন্য সিলেক্ট হয়ে যান। এখানে খুব সহজ একটা ক্যালকুলেশন ৯০% জব সিকাররা তাঁদের সিভিতে কোন পোটফলিও ওয়েবসাইট তুলে ধরবে না, আর এখানেই আপনার এগিয়ে থাকার সুযোগ। সিভির উপর অংশের বাম দিকে যেখানে আপনার ফোন নাম্বার,ই-মেইল এড্রেস দিয়ে থাকেন সেখানে ফোন নাম্বার, ই-মেইল এড্রেসের পরই যদি আপনার ওবেসাইটের নামটা তুলে ধরতে পারেন তাহলে নিজেই ভেবে দেখুন অন্য সবার সিভির থেকে আপনার সিভিটা কতটুকু এগিয়ে থাকবে। 

ব্যবসার জন্য ওয়েবসাইট

বিল গেটর্স এর একটা জনপ্রিয় উক্তি আছে ( If your business is not on the Internet, then your business will be out of business ) উক্তিটি আজকের এই যুগে একদমই সঠিক। ডিজিটাল এই সময়ে আপনার ব্যবসা যদি ইন্টারনেটে না থাকে, তাহলে আপনার ব্যবসা খুব বেশি গ্রো করতে পারবে না, একটা নিদির্ষ্ট গন্ডিতেই আপনার ব্যবসা রয়ে যাবে। 

ব্যবসা তখনই বড় হয় যখন এর কাস্টোমারবেস বড় আকারের হয়ে থাকে। ইন্টারনেটে আপনে যে পরিমাণ কাস্টোমার একত্রে পাবেন পৃথিবীর কোথাও সেটা আর দ্বিতীয় বার পাবেন না। ব্যবসার প্রচার-প্রচারণা থেকে শুরু করে যাবতীয় কাজ-কর্ম একটি ওয়েবসাইট দিয়ে সম্ভব। উদাহরণ চোখের সামনেই আছে, অ্যমাজনের দিকে তাকিয়ে দেখুন। একটি ওয়েবসাইট কত বড় আকার ধারণ করতে পারে এবং কতটা লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হতে পারে তাঁর সবথেকে বড় উদাহরণ অ্যমাজন।

ওয়েবসাইট একটা বিশ্বস্ততার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে, কোন কাস্টোমার আপনার ব্যবসার নাম দিয়ে যখন সার্চ করে ওয়েবসাইট পেয়ে যাবে এবং সেখানে সব তথ্য পাবে তখন তাঁর ট্রাস্টের পরিমাণ কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। এছাড়াও ওয়েবসাইট ব্যবহার করে কম খরচে মার্কেটিং করার সুযোগ তো রয়েছেই যার বিনিময়ে আপনার গ্রাহক সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি হতেই থাকবে। 

আপনার ওয়েবসাইট টি যেহুতু বছরের ৩৬৫ দিন ২৪ ঘণ্টা লাইভ থাকবে তাই যে কেউ চাইলে পৃথিবীর যে কোন প্রান্ত থেকে সার্চ করে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে, অর্ডার করতে পারবে। বাংলাদেশে ই-কর্মাসের যাত্রা সবে মাত্র ভালো ভাবে শুরু হয়েছে, আগামীর বাংলাদেশ ই-কমার্সময় তাই এখনো যদি আপনে হাত গুটিয়ে বসে থাকেন, ডিজিটাইলজেশনের সাথে নিজের ব্যবসার রূপকে পরিবর্তন না করেন তাহলে ভবিষ্যতে আপনার ব্যবসার অসিত্ব টিকে রাখা খুবই কষ্টসাধ্য হয়ে যাবে, ব্যবসার জন্য ওয়েবসাইট থাকাটা এখন একপ্রকার বাধ্যেতামূলক।

Leave a Comment